বিদ্যালয় সৃষ্টির ইতিহাস

মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। সু-শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি সাধন করতে পারে না তাই অর্থবহ ও কল্যাণমূখী শিক্ষার মাধ্যমে তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে দেশ প্রেমিক, চরিত্রবান ও আদর্শ নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার মহান উদ্দেশ্য নিয়েই "জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়" এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অত্র বিদ্যালয়টি জয়পুরহাট জেলার অন্তর্গত আক্কেলপুর উপজেলাধীন, রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে জামালগঞ্জ বাজারের কেন্দ্রে অবস্থিত। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে। বিদ্যালয়টি ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষার একমাত্র নারী শিক্ষা কেন্দ্র।

রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের গন্যমান্য সুশীল সমাজ অত্র এলাকায় আলাদাভাবে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সাধারণ মিটিং ঢোলসহরত করে ডেডরাজ তাঁতের বাসায় অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত সভায় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মরহুম মফিজউদ্দীন আহমেদ, মরহুম আব্দুল মান্নান সওদাগর, মরহুম ফজলুর রহমান সওদাগর, মৃত ডেডরাজ তাঁতে, মৃত ফতে চাঁদ তাঁতে, এস.এম. আশরাফ, মরহুম আতাহার উদ্দীন, মরহুম মজিবর রহমান সওদাগর, মরহুম ময়েন উদ্দীন, মরহুম আব্দুস সামাদ, মরহুম দিদারুল হক মন্ডল, মরহুম আনওয়ারুল হক সওদাগর সহ আরো অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অত্র বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রয়েছে।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জায়গা নির্ধারনের জন্য প্রাথমিক ভাবে মরহুম আব্দুল মান্নান সওদাগর এর বাসা সংলগ্ন পাটের গুদামে বিদ্যালয় পরিচালনার কাজ প্রাথমিক ভাবে শুরু করার অনুমতি দেন এবং কিছুদিন পরেই বগুড়া ডি.সি মহোদয়ের অত্র এলাকায় পরিদর্শনকালে অত্র এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের অনুরোধে ডি.সি মহোদয় একটি পরিত্যক্ত পাটের গুদামকে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপারিশ করেন। ইতিপূর্বে উক্ত জয়গায়টি জাহান আলী দেওয়ান এক্সচেঞ্জ করায় তাকে ডাকা হলে তিনি এক্সচেঞ্জ ভ্যালিড করার জন্য ডি.সি অফিসে আবেদন করেন এবং ডি.সি মহোদয় আবেদন অনুমোদন করলে অত্র বিদ্যালয় কতৃপক্ষ জমিটি বিদ্যালয়ের নামে ক্রয় করেন। পরে জাহান আলী দেওয়ান অত্র গুদামের যাবতীয় মালামাল বাবদ ২৫০০০/= টাকা বিদ্যালয়কে দান করে বিদ্যালয়ের স্থায়ী প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। পরে বিদ্যালয় কমিটি জমিটি জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে খারিজ করে এ যাবত পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করে আসিতেছেন। জমি ক্রয় করার কিছু বছর পরে এনিমি প্রোর্পাটি জমিটি দাবী করলে বিদ্যালয় জমি রক্ষার জন্য এনিমি প্রোর্পাটির উপর মামলা করে এবং বিদ্যালয়ের পক্ষে রায় হয়। এনিমি প্রোর্পাটি উক্ত রায়ের উপর আপিল করলে আদালত আপিলটি খারিজ করে দেয়। অতপর বিদ্যালয় পাকাপোক্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

দাতা হওয়ার নিমিত্তে ৫জন অন্তভূক্ত হয়।
(১) মাওলানা আব্দুর রহমান সরকার
(২) মোঃ আব্দুর আলীম
(৩) মোছাঃ সেলিমা খাতুন
(৪) এস এম আশরাফ
(৫) এস এম সেলিম আল আরশাদ।

বিদ্যালয়টির সাথে জয়পুরহাট ও পাশ্ববর্তী নওগাঁ ও বগুড়া জেলার সাথে সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগের সুব্যবস্থা রয়েছে। উপরন্ত বিদ্যালয়ের পুর্ব পার্শ্বে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী জামালগঞ্জ রেলষ্টেশন এবং পশ্চিম পার্শ্বে রয়েছে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর ( সোমপুরবিহার ) বৌদ্ধবিহার পর্যটন কেন্দ্র।